রোহিঙ্গা হত্যায় বিশ্ব বিবেক আজ বোবা
সিফাত কবিরঃ
আমার স্পষ্ট মনে আছে আমি গত বছর যখন সাংবাদিক এবং আমার অফিসে কর্মরত ছিলাম তখন এই মায়ানমার সরকার গণহত্যা শুরু করেছিল। তার কিছু দিন পর হত্যার সংবাদও কিছুটা কমে এসেছিল, ভেবছিলাম হয়তো এইবার কিছু হবে। কিন্তু না কিছুই হয়নাই।
আমি জানি আমরা এখান থেকে চিৎকার করলে কিছুই হবে না। কিন্তু আমি একটা কথা বলবো, রোহিঙ্গা ইস্যুতে আমাদের দেশ, আমাদের সরকার, তার থেকেও বড় আমাদের মাতৃতুল্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যেই সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছেন তা আসলেই প্রশংসনীয়। আমরা ছোট একটি দেশ হিসেবে যা করেছি তা নিয়ে আমরা গর্ব করতে পারি। ধন্যবাদ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনি যা করেছেন তার জন্য। আর কিছু চামচিকা তো থাকবেই কথা বলার জন্য। সেই সব চামচিকাদের পাত্তা না দেয়াই বুদ্ধির কাজ হবে।
অযোগ্য সুচি বললো তার দেশে নাকি কোনো হত্যাযজ্ঞ হচ্ছে না। তখন ভারতের প্রধানমন্ত্রী সেখানে। আর মোদী সাহেবও তাদের সমর্থন করে আসলেন এবং হত্যাযজ্ঞ বিষয়ে কোনো কিছুই বললেন না। অবশ্য তার থেকে আর বেশি কিই বা আশা করা যায় ? কারন গুজরাটের দাঙ্গার মহানায়ক তো উনিই, সেই সময় যে গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী তিনিই, আর সকলেই জানে, আর এটা Open secret যে মোদী নিজেও মুসলিম বিদ্বেষী।
যদি হত্যা নাই হয়ে থাকে তবে ৩ লক্ষ্য রোহিঙ্গা কি শুধু শুধু বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে? একটা অন্ধ ব্যাক্তির কি স্বার্থ থাকতে পারে নিজের ভিটে মাটি ছেড়ে অন্য দেশে আসবার ?
একটা দেশের পুরুষ-নারীরা কখন অস্ত্র হাতে নেয় ? যখন তাদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে যায়, আর তাদের আমরা তখনই সন্ত্রাস বলে চালিয়ে দেই, যেটা খুব সুন্দর করে সুচি সাজিয়ে বলেছেন, তাও আবার কার কাছে যখন মহানায়ক মোদীর উপস্থিত তার দেশে।
আমি এখানে ধর্মকে টানবো না, ধর্মের বেড়াজালে আমি এই Genocide কে বাধবো না। আমি বলবো নির্দোশ অসহায় মানুষ কে হত্যা করা হচ্ছে। জাতীর বিবেক কে হত্যা করা হচ্ছে। আমি বলবো পৃথিবী ধ্বংসের ষড়যন্ত্র চলছে। আমি বলবো বাংলাদেশের পার্বত্য অঞ্চল এক গোষ্ঠী হাতিয়ে নেবার ষড়যন্ত্র করছে, ঠিক যেমনটি ভারতের সিকিমের সাথে হয়েছে।
বিশ্ব কি দেখছে না ? আর কতো চুপ থাকবে এই বোবা বিশ্ব ? তারা আজ যেই স্বার্থের জন্য স্তব্ধ হয়ে আছে সেই স্বার্থ একদিন আর রক্ষা হবে না। তাদের উপরেই একদিন ভারি পরবে।
সৌদির রাজা দেখি কনফারেন্সের সময় নাক ডেকে ঘুমায়। আমেরিকা, রাশিয়া , ভারত লাগতো না , শুধু মুসলিম বিশ্ব হাত বাড়ালেই হতো।
আমার শুধু এটাই বলার দেশে যত রোহিঙ্গা আসবে আমাদের দেশের ততো ক্ষতি হবে, নিজ স্বার্থ রক্ষায় হলেও আমাদের উচিত যত দ্রুত সম্ভব কূটনৈতিক চাপে ফেলে রোহিঙ্গাদের তাদের দেশে, তাদের নিজ রাজ্যে ফেরানো। কিন্তু তার সাথে এটাও মনে রাখতে হবে, তাদের ক্ষতিটা যেনো আমরা না করি, এবং বিকৃত মন মানশিকতার পরিচয় না দেই।
শয়তানের চেহারা দেখতে নাকি খুব সুন্দর, কিন্তু আদতে কিন্তু শয়তান তার শয়তানি চালিয়েই যায়। ঠিক তেমনিই সুচি যেই শান্তির রূপ দেখিয়ে নোবেল হাসিল করেছিল, সেই নোবেল পাওয়ার পর যে সে কতোটা অশান্তির রানী তা বুঝিয়েছেন।
Comments
Post a Comment